সপ্তাহের সেরা

    আখ্যাত রচনা

    প্রবন্ধঅস্ কথন

    অস্ কথন

    Hypothesis শব্দটি এসেছে গ্রিক hupo এবং thesis থেকে। এর plural হচ্ছে Hypotheses।
    প্রাচীন গ্রিক ভাষায় হাইপোথিসিস শব্দটির ব্যবহার হত নাটকে গল্পের সারসংক্ষেপ বোঝাতে।

    ইংরেজি ভাষায় অনুমান বোঝাতে মূলত শব্দটির ব্যবহার হয়।

    সোজা বাংলায় কোনও ঘটনার সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হল হাইপোথিসিস।

    “A possible explanation of a phenomenon.”

    যদিও লোকে হাইপোথিসিস এবং থিওরি দুটিকে প্রায়শই সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু বিজ্ঞানে শব্দ দুটি বেশ পৃথক অর্থ বহন করে।

    হাইপোথিসিস হল কোনও ঘটনা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেওয়া এমন একটি ব্যাখ্যা যার সপক্ষে সেই মুহূর্তে কোন পোক্ত প্রমাণ নেই। এবং তাকে গ্রহণযোগ্য থিওরি করে তোলার জন্য আরও গবেষণা এবং প্রমাণের প্রয়োজন।
    এই শব্দের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় স্কুলের নবম শ্রেণিতে রসায়ন পড়তে গিয়ে। সেখানে শিখেছিলাম Avogadro’s Hypothesis।

    তারপরে রিসার্চ মেথডোলজি (Research methodology) পড়াকালীন শিখেছিলাম এই শব্দের এক নতুন প্রয়োগ Null Hypothesis.

    A null hypothesis is a hypothesis that says there is no statistical significance between the two variables.

    উদাহরণ দিই,—

    বিচার ব্যবস্থায় একটি কথা খুব প্রচলিত। আমরা সচরাচর বলে থাকি, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ। অর্থাৎ আমরা Null hypothesis হিসেবে ধরে নিচ্ছি ব্যক্তিটি নির্দোষ। এখানে এখন আইনজীবী Null hypothesis-কে ভুল প্রমাণিত করতে চেষ্টা করবেন। যদি তিনি প্রমাণ করতে পারেন তা তবে আমরা সিদ্ধান্ত নেব নাল হাইপোথিসিস ভুল প্রমাণিত হয়েছে, এবং Alternate hypothesis সঠিক। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি অপরাধী ।

    Null hypothesis, H0 = He is Innocent.
    Alternative hypothesis, H1= He is not innocent.

    Null hypothesis- এর বাংলা হল নাস্তি কল্পনা। Null অর্থ শূন্য বা অকার্যকর। ছোটবেলা Phrase and idioms পড়তে গিয়ে শিখেছিলাম Null and void — মানে বাতিল। আমি যখন প্রথম null hypothesis পড়তে গিয়ে এর বাংলা জানলাম নাস্তি, তখন স্রেফ ভিরমি খেলাম। নাস্তি মানে কী আবার? ইংরেজি গ্রামারে Affirmative sentence-কে Negetive sentence-এ পরিবর্তন করা শিখেছিলাম। এই Affairmative sentence-এর বাংলা হল অস্তিবাচক বাক্য।

    মর জ্বালা! অস্তি আবার কী?

    অস্তি বাংলা শব্দ। এসেছে সংস্কৃত থেকে। সংস্কৃত শব্দগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হল একই মূল থেকে বা ধাতু থেকে অনেকগুলো শব্দ তৈরি হয়। এই সিনক্রোনাইজড বৈশিষ্ট্যের কারণে সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের বানান পরিবর্তন করা যায় না, বা এতে কোনোরূপ হাত দিতে পণ্ডিতেরাও ভয় পান।

    এখন আমরা আবার অস্তি শব্দে ফেরত যাই। তার আগে আরেকটি শব্দ দেখি। এটি হল অস্ত। এতক্ষণে পাঠক স্বস্তি পেলেন। কারণ এই অস্ত শব্দের সঙ্গে আপনি ভালোভাবে পরিচিত। অস্ত দ্বারা বোঝায় পশ্চিম দিগন্তে সুয্যিমামার ডুব দেওয়া। খুব সহজ। এই অস্ত শব্দের ব্যুৎপত্তি হল, √অস্+ত=অস্ত।

    অস্ ধাতুর সঙ্গে ত কৃৎপ্রত্যয় যোগে তৈরি হয়েছে অস্ত শব্দ।

    এই অস্ ধাতুর সঙ্গে তি প্রত্যয় যুক্ত হলে হয় অস্তি, যা নিয়ে এতক্ষণ আমরা ভাবছিলাম।

    কিন্তু অস্তি শব্দের অর্থ আমাদের কাছে এখনও প্রতিভাত হচ্ছে না।

    √অস্+তি=অস্তি; অস্তি প্রাতিপদিক (বিভক্তিহীন নামশব্দ) বা নাম শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ত্ব যুক্ত হয়ে তৈরি হয়, অস্তি+ত্ব=অস্তিত্ব।

    এখন সব ফকফকা। কারণ অস্তিত্ব মানে আমরা জানি। অস্তিত্ব অর্থ সত্তা বা বিদ্যমানতা। অস্তি অর্থও সত্তা বা অস্তিত্ব।

    অস্তি+ইক=আস্তিক। আমি আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করি।
    ন+অস্তি=নাস্তি। অর্থ অবিদ্যমানতা বা অস্তিত্বহীনতা।
    ন+অস্তি+ইক=নাস্তিক, ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না।
    নাস্তি কল্পনা (Null hypothesis) মানে আমি বিশ্বাস করি না দুটি Variable-এর মধ্যে কোনো statistical significance আছে বলে।

    অস্ ধাতুর সঙ্গে অন্য প্রত্যয় যুক্ত হয়ে আর কী কী শব্দ তৈরি হয় আমরা দেখি।

    √অস্+তু=অস্তু। অস্তু থেকে হয় তথাস্তু।

    তথা+অস্তু=তথাস্তু।

    অস্তু+ত=অস্তুত, মানে স্তুতি বা প্রশংসা করা হয়নি এমন।

    √অস্+ত্র=অস্ত্র।

    এর মানে তো আর বলে দিতে হবে না। রাজপথে সমরাস্ত্রের (সমর+অস্ত্র) ঝনঝনানি তো দেখছেনই আপনারা। ত্রাহিত্রাহি অবস্থা জনজীবনে। দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় উর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের অস্থিচর্মসার।
    এই অস্থিতেও আছে √অস্+থি=অস্থি। যাবেন কোথায় মশাই? পালানোর উপায় নেই।

    একটু স্বস্তিতে থাকার আশা স্রেফ দুরাশা। এখন রীতিমতো অস্বস্তিবোধ হচ্ছে তাই না? না, আর জ্বালাতন করব না আপনাদের। শেষমেশ স্বস্তি দিয়েই শেষ করি তবে।
    সু+√অস্+তি=স্বস্তি। সু+অস্তি=স্বস্তি (উ+অ= অন্তস্থ ব)।

    মোরশেদ হাসান
    মোরশেদ হাসান
    ব্যক্তিজীবনে একজন চিকিৎসক তিনি। বাংলা ব্যাকরণেও রয়েছে প্রচুর আগ্রহ। ব্যাকরণও শব্দ বিষয়ে প্রকাশিত হয়ে বই। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরও অনেকে রচনা।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here
    Captcha verification failed!
    CAPTCHA user score failed. Please contact us!

    লিপিশক্তি কী ও কেন প্রয়োজন?

    আমাদের সৌভাগ্য যে, বাংলা ভাষার নিজস্ব একটি লিপি আছে। এই লিপি দিয়ে আমরা আমাদের প্রতিটি ধ্বনিকে লিখতে পারি। কিন্তু, শক্তিমান লিপিগুলোর মধ্যে বাংলার স্থান...

    আরবি ভাষার কি আঞ্চলিক রূপ আছে? — প্রথম পর্ব

    পৃথিবীর প্রতিটি কথ্য ভাষার আঞ্চলিক রূপ রয়েছে। আমাদের বাংলা ভাষা প্রধানত বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভাষা। এছাড়া ত্রিপুরা, আসাম, ঝাড়খণ্ড ও বার্মার আরাকানেও...

    বানান ও উচ্চারণ, কে কার অনুগামী হবে?

    উচ্চারণ অভিধানগুলোতে ব্যঞ্জনবর্ণের লুপ্ত অ-কে ও দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, বানান থেকে হসন্ত বিলুপ্ত করার প্রয়াসেই এই নূতন সমস্যার সৃষ্টি। সকলেই জানে ব্যঞ্জন বর্ণের মধ্যে...

    বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব

    ভাষা নিয়ে তথ্য সংগ্রহকারী আন্তজার্তিক সংস্থা এথনোলগ্-এর সর্বশেষ ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের প্রতিবেদন (২৩ তম সংস্করণ) অনুযায়ী পৃথিবীতে ৭১১৭টি জীবন্ত ভাষা রয়েছে। এরমধ্যে ভাষাভাষী হিসেবে বাংলা...

    লেখক অমনিবাস

    অসুখ

    এসব পুরনো রোগ। মাঝে মাঝে কচুরিপানা ভর্তি পাঁক হতেভুস করে ভেসে ওঠে আর ভুবন চিল ডানা মেলে আকাশে চক্রাকারে ভাসে। এসব পুরনো রোগএমনই হয়।জোনাকিরা ওড়ে...

    বনসাই

    রাত গভীর হয়ে আসে জানালার পাশে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় বৃক্ষের পত্রপুষ্প নির্জীব অশরীরি মূর্তির মতো ঘন জমাট বাঁধে। আকাশে শুক্লপক্ষের চাঁদ অদ্ভুত এক আলো আধাঁরির রহস্যময় খেলা অথৈ অলৌকিক...

    আরবি ভাষার কি আঞ্চলিক রূপ আছে? — প্রথম পর্ব

    পৃথিবীর প্রতিটি কথ্য ভাষার আঞ্চলিক রূপ রয়েছে। আমাদের বাংলা ভাষা প্রধানত বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভাষা। এছাড়া ত্রিপুরা, আসাম, ঝাড়খণ্ড ও বার্মার আরাকানেও...

    এই বিভাগে