সপ্তাহের সেরা

    আখ্যাত রচনা

    কবিয়াল বিজয় সরকার

    এ পৃথিবী যেমন আছে তেমনই ঠিক রবে — স্মরণ -🙏 মরমী সাধক কবিয়াল বিজয় সরকার

    কবিয়াল বিজয়কৃষ্ণ সরকার একজন কবিয়াল, কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও চারণ কবি।

    জন্ম ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯০৩ সালে নড়াইলের ডুমদী গ্রামে। তাঁর প্রকৃত নাম বিজয় কৃষ্ণ অধিকারী।

    কবি তাঁর ভক্ত ও স্থানীয়দের কাছে ‘পাগল বিজয়’ হিসেবে সমধিক পরিচিত।

    তাঁর বহু জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে এ পৃথিবী যেমন আছে, তেমনই ঠিক রবে/ সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে, পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী একদিন ভাবি নাই মনে, তুমি জানো না রে প্রিয়/ তুমি মোর জীবনের সাধনা, আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে প্রভৃতি অন্যতম।

    তাঁর পিতার নাম নবকৃষ্ণ বৈরাগী ও মাতার নাম হিমালয়া কুমারী। পিতামহ গোপালচন্দ্র বৈরাগী।

    তিনি স্থানীয় টাবরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে নেপাল বিশ্বাস নামক একজন শিক্ষকের কাছে যাত্রাগানের উপযোগি নাচ, গান ও অভিনয় শেখেন।

    প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য তিনি বেশ কয়েকটি স্কুল পাল্টান। প্রায় সবখানেই তিনি এমন এক বা একাধিক শিক্ষক পান, যাদের কাছে তিনি গান শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। অল্প বয়সে পিতামাতা হারানোয় তাঁর লেখাপড়া বেশিদূর এগোয়নি। দশম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি লেখাপড়া করেন।

    তিনি স্থানীয় স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতার কাজ করেন। কিছুদিন করেন নায়েবের কাজ। পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের লোক ও আধুনিক গান চর্চা করতেন।

    ১৯২৫ সালে তিনি গোপালগঞ্জের কবিয়াল মনোহর সরকারের কাছে কবিগান শেখেন। কিছুদিন পর তিনি রাজেন্দ্রনাথ সরকারের সংস্পর্শে আসেন এবং তার কাছেও কবিগানের তালিম নেন।

    ১৯২৯ সালে বিজয় সরকার নিজের একটি গানের দল করেন এবং কবিয়াল হিসেবে পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি গানের কথা এবং সুর করতেন।

    ভাটিয়ালী সুরের উপর ভিত্তি করে তাঁর ধুয়া গানের জন্য তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা পান।

    তিনি রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, কবি জসিমউদ্দিন, আব্বাসউদ্দিন আহমদ প্রমুখের সান্নিধ্যে এসেছিলেন।

    বিজয় সরকার প্রায় ৪০০ সখি সংবাদ এবং ধুয়া গান রচনা করেন। এর মধ্যে কিছু কাজ বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত হয়।

    তিনি বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, এবং বেতার টেলিভিশনেও কবিগান পরিবেশন করেন।

    বাংলাদেশ ও ভারতে তিনি আনুমানিক ৪০০০ আসরে কবি গান পারিবেশন করেন। এছাড়া তিনি রামায়ণ গানও পরিবেশন করতেন।

    বিজয় সরকারের পারিবারিক উপাধি ছিল বৈরাগী। তিনি নিজে বৈরাগী উপাধি ত্যাগ করে অধিকারী উপাধি গ্রহণ করেন। কবিয়াল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করার পর তিনি অবশ্য বিজয় সরকার নামে পরিচিত হয়ে পড়েন।

    ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।

    ২ ডিসেম্বর ১৯৮৫ সালে আবহমান বাংলার প্রতিভাধর এই চারণ কবি লোকান্তরিত হন।

    নকল নবিস
    নকল নবিসhttp://www.jegeachi.com
    নকল নবিস ব্যক্তি বিশেষ নয়, খোদ ‘জেগে আছি’র সম্পাদকীয় দপ্তর। অজ্ঞাত উৎসের লেখা সমূহ নকল ও সম্পাদনা করে ‘জেগে আছি’তে প্রকাশ করাই ‘নকল নবিসে’র কাজ। প্রয়োজন আইন মানে না, নকল নবিসও প্রয়োজনের পূজারী।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here
    Captcha verification failed!
    CAPTCHA user score failed. Please contact us!

    চার্লি চ্যাপলিন

    ১৯৭২ সালে ৮৩ বছর বয়সে যখন অস্কার নিতে মঞ্চে ওঠেন, টানা বারো মিনিট হাততালির ঝড় বয়ে যায় অস্কার মঞ্চে। অস্কারের ইতিহাসে সেটাই ছিল দীর্ঘতম...

    বিপন্ন সময়ে ভিন্ন ঘোর

    আমি আত্মমগ্ন মানুষ। নিজের সাথেই নিজের এত কথা আছে যে, অন্য আর কারও সাথে কথা বলার বা ভাব বিনিময়ের তাড়া সাধারণত তৈরি হয় না।...

    পটুয়া কামরুল হাসান

    পটুয়া — এই শব্দটি উচ্চারন করলেই যার নামটি সবার মনে ভেসে ওঠে তিনি শিল্পী কামরুল হাসান। এ দেশের চারু ও কারুকলায়, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পরেই...