সপ্তাহের সেরা

    আখ্যাত রচনা

    ২৬ অক্ষরে ১১৮ মৌলের পর্যায় সারণি

    ইংরাজি বর্ণমালায় ২৬-খানা অক্ষর। পর্যায় সারণিতে ১১৮-খানা মৌলিক পদার্থ। তাদের প্রতীক লেখা হয় কখনও একখানা বর্ণ দিয়ে, যেমন হাইড্রোজেন H (1), কার্বন C (6), অথবা দু-খানা বর্ণ দিয়ে, যেমন হিলিয়াম He (2), ক্লোরিন Cl (17)। ব্র্যাকেটের মধ্যে লেখা সংখ্যাগুলো এদের পারমাণবিক সংখ্য। যেগুলোর প্রতীক একখানা বর্ণ দিয়ে, সেগুলো ক্যাপিট্যাল লেটারে, যেগুলো দুটো দিয়ে, সেগুলোর প্রথম অক্ষর ক্যাপিট্যাল, দ্বিতীয়টা স্মল – এ রকমভাবে। যেগুলোতে দুটো বর্ণ ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলোতে দুটো বর্ণ লাগার কারণ প্রথম বর্ণটা সাধারণভাবে অন্য মৌলিক পদার্থকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে গেছে।

    ২৬-খানা অক্ষর দিয়ে ২৬-খানা আলাদা মৌলিক পদার্থকে বোঝানো যেত। কিন্তু তার মধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ১৪-খানা। A, D, E, G, J, L, M, Q, R, T, X, Z – এই ১২-খানা বর্ণ কোনো মৌলিক পদার্থের প্রতীক নয়। তবে J, Q, X বাদে বাকি সবগুলো বর্ণ দিয়ে একাধিক মৌলের নাম আছে, অর্থাৎ আরও ৯-খানা মৌলের নাম একটা বর্ণ দিয়েই প্রকাশ করা সম্ভব ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। আগের অনুচ্ছেদের শেষ লাইনটা তার মানে সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

    যে ১৪-খানা মৌলিক পদার্থের প্রতীক মাত্র একটা বর্ণ, তারা হচ্ছে – বোরন B (5), কার্বন C (6), ফ্লুরিন F (9), হাইড্রোজেন H (1), আয়োডিন I (53), পটাসিয়াম K (19), নাইট্রোজেন N (7), অক্সিজেন O (8), ফসফরাস P (15), সালফার S (16), ইউরেনিয়াম U (92), ভ্যানাডিয়াম V (23), টাংস্টেন W (74) এবং ইট্রিয়াম Y (39)। N-O-P এবং U-V-W – এরাই কেবল পর পর তিনটে বর্ণওয়ালা মৌল। এদের মধ্যে একমাত্র U, V, W দিয়েই দু-অক্ষরের কোনো মৌলের প্রতীক নেই।

    A, D, E, G, L, M, R, T, Z – এই নয় বর্ণের প্রত্যেকটা দিয়ে একাধিক মৌলিক পদার্থের নাম আছে, অথচ সবগুলোতেই দুটো করে বর্ণ নেওয়া হয়েছে এবং এদের শুধুমাত্র প্রথম অক্ষর দিয়ে কোনো মৌলকে চিহ্নিত করা হয়নি। অ্যালুমিনিয়াম Al (13), আর্গন Ar (18), আর্সেনিক As (33), সিলভার Ag (47), গোল্ড Au (79), অ্যাস্টাটাইন At (85), অ্যাক্টিনিয়াম Ac (89), অ্যামেরিসিয়াম Am (95) – এই আটখানা মৌলের প্রতীক A দিয়ে শুরু, অথচ শুধু A দিয়ে কোনো মৌলকে চিহ্নিত করা হয় না। D দিয়ে আছে মাত্র তিনটে মৌলঃ ডিস্প্রোসিয়াম Dy (66), ডাবনিয়াম Db (105) এবং ডার্মস্টেডিয়াম Ds (110), যাদের মধ্যে মাত্র প্রথমটাই শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, সেটাকে অনায়াসেই শুধু D দিয়ে প্রকাশ করা যেত, কিন্তু তা হয়নি। Z দিয়ে মৌলের সংখ্যা সাকুল্যে দু-খানাঃ জিঙ্ক Zn (30) আর জির্কোনিয়াম Zr (40), শুধু Z দিয়ে এদের একটাকে প্রকাশ করাই যেত।

    আগে যে লিখলাম, J, Q, X বাদে বাকি সবগুলো বর্ণ দিয়ে একাধিক মৌলের নাম আছে, এর মানে এই নয় যে J, Q, X – এই তিন বর্ণ দিয়ে শুরু কোনো মৌলের প্রতীক নেই। X দিয়ে শুরু জেনন, Xe (54), তাকে শুধু X দিয়ে লিখলে মহাভারত বিন্দুমাত্র অশুদ্ধ হ’ত না। কিন্তু তা করা হয়নি। একমাত্র J আর Q দিয়ে শুরু এক- বা দুই-বর্ণের কোনো প্রতীক নেই। প্রকৃতপক্ষে এই দুই বর্ণ পর্যায় সারণীর প্রতীকে (এমনকি দ্বিতীয় অক্ষর হিসাবেও) অনুপস্থিত।

    তবে খেয়াল রাখতে হবে, আয়োডিনের জার্মান নাম Jod হওয়ায় অতীতে কেউ কেউ এর প্রতীক হিসাবে J ব্যবহার করেছেন।

    * * *

    পর্যায় সারণি নিয়ে লেখা আমার ‘দিমিত্রির টেব্‌ল্‌’ এখন ছাপাখানায়। ওপরে যা লেখা হ’ল, সে সব অবশ্য এই বইতে নেই। পাণ্ডুলিপি প্রকাশকের কাছে পাঠানোর আগে তার বিশাল বপুর চর্বি কিঞ্চিৎ হ্রাস করার জন্য যে-সমস্ত অংশগুলো বাদ দিয়েছি, এটা হচ্ছে তার এক অংশ।

    প্রকাশকের দাবি, ২৬শে ডিসেম্বর থেকে এ-বই পাওয়া যাবে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here
    Captcha verification failed!
    CAPTCHA user score failed. Please contact us!