সপ্তাহের সেরা

    আখ্যাত রচনা

    তাভিরনেয়ের ভ্রমণ : পর্ব ছয়

    মূল : The Six Voyages of John Baptista Tavernier (1678)

    পঞ্চম পরিচ্ছেদ : আরডেভিল ও ক্যাসবিনের মধ্য দিয়ে তাউরিস থেকে ইস্পাহান পর্যন্ত কনস্টান্টিনোপলিটান সড়কের ধারাবাহিকতা।

    তাউরিস থেকে ইস্পাহান পর্যন্ত কাফেলা সাধারণত চব্বিশ দিনের যাত্রা করে।

    প্রথম দিন শুষ্ক পর্বতমালা অতিক্রম করে এবং তাউরিস থেকে চার লীগ পরে পারস্যের অন্যমত মনোরম অতিথীশালা পাওয়া যায়। যা শাহ শেফির নির্দেশে নির্মিত হয়েছিল; এটি খুব সুবিধাজনক এবং একশত মানুষ তাদের ঘোড়াসহ থাকার মত বড়। সমগ্র পারস্যে, বিশেষ করে তাউরিস থেকে ইস্পাহান এবং এখান থেকে ওরমাস পর্যন্ত প্রতিদিন সমান দূরত্বে অতিথীশালা পাওয়া যাবে।

    পরদিন আপনি একটি পর্বত হতে নেমে আসবেন, খুব রুক্ষ ও সংকীর্ণ পথ। এই পর্বতের পাদদেশে বণিকদের বেছে নেওয়ার জন্য দুটি পথ রয়েছে যেগুলো ধরে ইস্পাহান যাওয়া যায়। তারা, যারা সাধারণ রাস্তা এবং কোম ও কাচানের মধ্য দিয়ে সরাসরি পথে যাবে, তারা বাম দিকে একটি হ্রদ ছেড়ে যাবে যা দুটি রাস্তাকে পৃথক করে; তারা, যারা অন্য দুটি ভাল শহর আরডেভিল ও ক্যাসবিনের মধ্য দিয়ে যাবে, তারা ডান দিকে হ্রদ ছেড়ে পর্বতের পাশ ধরে উপকূলে থাকবে। তাউরিস থেকে আরডেভিল বার লীগের বেশি নয়; হ্রদ পেরিয়ে যাওয়ার পরে এলাকাটি অনেক ভাল। এই রাস্তাটিই আমি প্রথমে বর্ণনা করতে চাই।

    আরডেভিল ও তাউরিসের দূরত্ব এতই কম যে প্রায় একই ডিগ্রি ও মিনিট দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশে অবস্থান করে। গুইলান থেকে আসা রেশমের প্রথম বাজার হওয়ায় শহরটি বিখ্যাত, সেখান থেকে এটি খুব বেশি দূরেও নয়। পারস্যের মহামান্য বাদশা শাহ সেফির সমাধির জন্যও বিখ্যাত। এর তরুবেষ্টিত রাজপথগুলি খুব মনোহর, উদ্যান পথের মত অনেকগুলো বৃক্ষে সুশোভিত। এগুলোর নাম চিনার[1] যা সোজা সারিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপিত হয়েছে। এটি মোটামুটি বড় আকারের এবং পর্বতমালার সুদৃশ্য ফাঁকে অবস্থিত। অতঃপর সেবালান শহর, এটি সর্বমাধ্যমেই সর্বোচ্চ। আরডেভিলের ঘরগুলো মাটির তৈরি, পারস্যের শহরগুলির বেশির ভাগ বাড়ির মত। তবে রাস্তাগুলো খুবই অসমতল, নোংরা ও সংকীর্ণ। একটিই কেবল সুদর্শন যার শেষে আরমেনীয় চার্চ নির্মিত হয়েছে। শহরের মধ্য দিয়ে একটি ছোট নদী বয়ে গেছে, যা পার্শ্ববর্তী পর্বতমালা থেকে নেমে পূর্ব থেকে পশ্চিমে চলে গেছে। অনেকগুলো নালা কেটে বাগানে জল সিঞ্চনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, অনেক স্থানে অনেকগুলো মনোহর গাছ লাগানো হয়েছে যা দেখতে খুবই আনন্দদায়ক। ময়দান বা বাজার খুবই বড়, বৃত্তাকারের চেয়ে লম্বায় বেশি। একপাশে খানের তৈরি একটি মনোরম অতিথীশালা রয়েছে। শহরের বিভিন্ন অংশে আরও অনেকগুলো রয়েছে, যার বেশ কয়েকটি মনোরম উদ্যানের উপর স্থাপিত, বিশেষ করে যা বাদশাহের অধিকারভূক্ত। দীর্ঘ ও সোজা পথে চার সারি বৃক্ষ অতিক্রম করে বড় তোরণ। এখান দিয়েই প্রবেশ করতে হবে। যদিও আরডেভিল এলাকাটি দাক্ষা চাষের জন্য বেশ উপযুক্ত তবু সেখানে কিছুই নেই। শহর থেকে চার পাঁচ লীগের মধ্যে কোন মদ তৈরি হয় না। শহরে বসবাসকারী আরমেনীয়রা এটা খুব ভালভাবে সংরক্ষণ করে। যদিও সমস্ত পারস্য এমন কোন স্থান নেই যেখানে মদ আমদানী বা পান করতে এত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। তবে এইসব খুব গোপনে করা উচিত। এটা মুসলমানদের ধর্মবিশ্বাসের বিষয়, পারস্যবাসীরা সেটাকে এতই ভক্তি করে যে প্রকাশ্যে মদপানকে তারা জঘন্য পাপ মনে করে।

    পারস্য সমস্ত অঞ্চল থেকে লোকেরা মহামান্য শাহ সেফির সমাধিতে তীর্থযাত্রায় আসে; যা রেশমের বিশাল বাণিজ্যের সাথে মিলে আরডেভিলকে পারস্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শহরগুলির মধ্যে অন্যতম করে তোলে। তাঁকে সমাহিত করা মসজিদে আরও অনেকগুলো ভবন যুক্ত করা হয়েছে। ময়দানের দিকের প্রবেশপথকে একটি বড় তোরণ দিয়ে দক্ষিণ দিকের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। তোরণটি শিকল দিয়ে বড় একটি চক্রের সাথে কোণাকুণি করে বেঁধে রাখা হয়েছে। যদি কোন দণ্ডার্হ অপরাধী এটি স্পর্শ করতে পারে এবং প্রথম প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারে, সে নিরাপদ; কেননা, কেউই তাকে গ্রেফতার করতে পারবে না। এটি একটি বৃহৎ প্রাঙ্গণ, যদিও প্রস্থের চেয়ে দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। প্রাচীর বিহীন। নগরচত্বরের দিকে মুখ করে বণিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য কয়েকটি দোকান তৈরি করা হয়েছে।

    এই প্রাঙ্গণ ছেড়ে আপনি অন্য একটিতে যাবেন, সেটি ছোট। প্রশস্ত পাথর দিয়ে বাঁধানো, যার মাঝ দিয়ে একটি নালা প্রবাহিত। প্রবেশ করতে হবে একটি তোরণ দিয়ে, এটি পূর্বেরটির মত লোহার শিকল দ্বারা সুরক্ষিত। এটি নির্মিত হয়েছে বড় প্রাঙ্গণের এক কোণে বামদিকে। এটি আপনাকে একটি দ্বারমণ্ডপে নিয়ে এসেছে। এখানে রয়েছে দেশীয় রীতিতে নির্মিত আসনপঙ্‌ক্তি। আসনপঙ্‌ক্তি বিভিন্ন লোকে পূর্ণ; হয় তীর্থযাত্রী অথবা সে সকল অপরাধী যাদের অভয়াশ্রমের জন্য গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। সেখানে যেতে হলে অবশ্যই লাঠি ও তলোয়ার ছেড়ে যেতে হবে, যতটুকু দূরত্বেই যান। অধিকন্তু, একজন মোল্লাহকে কিছু দক্ষিণা দিতে হবে, যিনি সর্বদা একটি খাতা নিয়ে সেখানে হাজির থাকেন।

    দ্বিতীয় প্রাঙ্গণ, যার মধ্য দিয়ে নালা প্রবাহিত হয়েছে, একদিকে রয়েছে স্নানঘর ও অন্যদিকে ধান ও ভুট্টার গোলাঘর; এবং বামদিকে, একই প্রাঙ্গণের শেষে একটি ছোট দরজা আছে যা আপনাকে এমন স্থানে নিয়ে যাবে যেখানে সকাল সন্ধ্যা দরিদ্রদের মাঝে রাজভিক্ষা বিতরণ করা হয়। বিপরীত দিকে রাজকীয় রন্ধনশালা। তোরণটি রূপার ফলক দ্বারা আবৃত। রন্ধনশালার ভিতরে, দেওয়ালের সাথে প্রায় ত্রিশটি উনুন রয়েছে। যেখানে মসজিদের কর্মকর্তা ও গরীবদের জন্য পোলাউ ও অন্যান্য খাবার সাজানোর জন্য বড় বড় পাত্র রয়েছে। যখন ভিক্ষা বিতরণ করা হয়, প্রধান বাবুর্চি, যিনি অন্যান্যদের নেতৃত্ব দেন, তিনি রৌপ্যফলক আবৃত একটি চেয়ারে বসে থাকেন এবং সব কিছু ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা তদারক করেন। তিনি প্রতিদিন পাত্রগুলোর জন্য চাউল পরিমাপ করে দেন এবং নিজের চোখের সামনেই সবাইকে খাবার বিতরণ করেন। কেননা, রাজবাড়িতে একটি অত্যুত্তম অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে।

    প্রথম প্রাঙ্গণের বাইরে দ্বারমণ্ডপের শেষে দুটি তোরণ রয়েছে, একটির উল্টোদিকে আরেকটি, দুটোই রৌপ্যফলকে মোড়ানো। দুটি তোরণের মধ্যস্থলে ডানপাশে একটি ছোট মসজিদ রয়েছে। সেখানে বেশ কিছু রাজরক্তীয় পারস্য বাদশাজাদার সমাধি রয়েছে। তোরণের গোবরাট পদদলিত না করার জন্য আপনাকে অবশ্যই খুব যত্নবান হতে হবে; কারণ, এটি কঠিন সাজা ছাড়া কাফফারা অযোগ্য অপরাধ। সেখান থেকে সামান্য এগিয়ে গেলেই মাজারের মূলকাঠামো, জমকালো গিলাফ ঝোলানো। উচ্চ মেজ দিয়ে শুরু করুন, যেখানে অনেক অনেক বই পড়ে থাকে, সেখানে মোল্লাহ বা আইন বিশেষজ্ঞরা মসজিদের পৌরোহিত্য লাভের জন্য বৃত্তিসহ অনুক্ষণ অধ্যয়ন করেন। মসজিদের মূলকাঠামোর শেষে একটি অষ্টভূজ স্মৃতিস্তম্ভ আছে। দেখতে চার্চের কোয়ারের মত[2] যার মধ্যখানে আছে শাহ সেফির স্মৃতিস্তম্ভ। এটি শুধুমাত্র কাঠ, কিন্তু অদ্ভূতভাবে খোদাই করা ও খচিত। এটির উচ্চতা সাধারণ গড়নে একজন মানুষের উচ্চতা অতিক্রম করে না। দেখতে বৃহৎ সিন্ধুকের মত, প্রতিটি কোণে চারটি করে সোনার আপেল স্থাপন করা হয়েছে। এটি প্রান্তভাগে সোনা দ্বারা অলঙ্কৃত রক্তাভ শাটিন কাপড়ে আচ্ছাদিত, পার্শ্ববর্তী অন্যান্য সমাধিগুলো ধনীদের মত রেশমী কাপড় দ্বারা আচ্ছাদিত। কোয়েরের পাশাপাশি মাজারের মূল অংশেও রয়েছে প্রদীপের প্রাচুর্য, কিছু সোনার, কিছু রূপার। কিন্তু সবচেয়ে বড়টি হলো রূপা, স্বর্ণাবৃত্ত ও হিঙ্গুলরাঙা এবং সুচারুভাবে খোদাই করা। এছাড়াও একটি অদ্ভূত ধরণের কাঠের ছয়টি বড় শাখা রয়েছে, রৌপ্যাচ্ছাদিত, বড় বড় মোমবাতি দ্বারা সজ্জিত। এগুলো তাদের মহতি উৎসব ছাড়া অন্য কোন সময় জ্বালানো হয় না।

    মাজার থেকে, যেখানে শাহ সেফির সমাধি রয়েছে, একটি ছোট খিলানের নিচে পারস্যের আরেকজন রাজার স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে যাঁর নাম আমি মনে রাখতে পারিনি। এটিও যেন একটি বৃহৎ সিন্ধুক, অদ্ভূত গড়ন ও সাটিন দ্বারা আচ্ছাদিত। মসজদিরে ছাদ স্বর্ণ ও নীলকান্তমণির অলঙ্করণ দ্বারা সজ্জিত, আ’লা মসজিদ। বহিরাংশে বিভিন্ন রঙের মনোরম চাকচিক্য, তাউরিসের রাজকীয় মসজিদের মত।

    আর্দেইলের আশেপাশে বেশি কিছু স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে, যা একজন মানুষের দেখার মত, খুব প্রাচীন। কিছু নষ্ট হয়ে গেছে, অবশিষ্টগুলো দ্বারা দেখা যায় স্মৃতিচিহ্নগুলোকে সমৃদ্ধ করতে অদ্ভূত কারিগরী দক্ষতার সহিত তারা কতটুকু মনোযোগ দিয়েছিল। শহর থেকে পোয়া লীগ দূরে একটি মসজিদ অবস্থিত, সেখানে শাহ সেফির পিতামাতার সমাধি রয়েছে। এটি বাগানসমূহ ও প্রাঙ্গণ সমৃদ্ধ অদ্ভূত অবকাঠামো। একটিতে পরিষ্কার একটি ফোয়ারা রয়েছে যেখানে তারা মাছ রেখেছে।

    আমি আগে যেমন বলেছি, আর্দেইল শুধুমাত্র এখানে থাকা রাজকীয় সমাধিগুলো ও পারস্যের সমস্ত অংশ থেকে এখানে আসা তীর্থযাত্রাগুলোর জন্যই বিখ্যাত নয়, বরং রেশমের অসংখ্য কাফেলা যা কখনো কখনো আট নয়শটি উট নিয়ে গঠিত হয়, তা এর মহিমাকে অনেক গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। গুইলান ও শামাকির কাছাকাছি থাকার কারণে, যেখান থেকে এই বিপুল পরিমাণ রেশম আসে এবং এই উভয় স্থান থেকে কন্সটান্টিনোপল ও স্মির্না যাওয়ার রাস্তা এই শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে এখানে বণিকদের ক্রমাগত সমাগম রয়েছে। এবং তাউরিসের মত এখানেও সকল প্রকার পণ্যসামগ্রী পাওয়া যায়।

    আর্দেইল থেকে কাসবিন পর্যন্ত আপনি একটি ভাল অঞ্চল দিয়ে ভ্রমণ করবেন; প্রতি তিন চার লীগ পর ছোট ছোট নদী পাবেন। সেগুলো উদীচীন পর্বতমালা থেকে প্রবাহিত হয়ে জমিনকে স্নিক্ত করেছে। সাধারণত, কাফেলা আর্দেইল থেকে আরিয়নের মধ্যে পাঁচ দিন, আরিয়ন থেকে তারোন মধ্যে দুই দিন এবং তারোন ও কাসবিনের মধ্যে আরও দুই দিন। তারোনের অর্ধলীগ এপাশে পাথরের সেতু দিয়ে একটি বড় নদী পার হতে হবে এবং অন্যপাশে অর্ধলীগ গেলেই কালকাল।

    আরিয়ন ছোট শহর, তারোন ও কালকাল বড় শহর এবং পারস্যের এই তিনটি স্থানে জলপাই জন্মে বা জলপাইয়ের তেল উৎপন্ন হয়। কালকাল ছেড়ে তিন ঘণ্টা যাবৎ একটি সমভূমি ভ্রমণ করতে হবে। এরপর এমন একটি পথ যা চার ঘণ্টার কমে ভ্রমণ করা সম্ভব হবে না। রাস্তাটি এতই খারাপ যে ঘোড়া ও খচ্চর উঠতে পারে না, কিন্তু উট পারে। তাদের নিচু রাস্তা ধরে যেতে হয়। এটিও খুব ক্লান্তিকর ও উপর থেকে নিচে পতিত হওয়া পাথরে ভরা। এটি প্রায় তিন চার লীগের পথ। উপরের রাস্তায় আসার পর এলাকাটি সমতল, এবং কাসবিন তিন লীগের উপরে নেই।

    কাসবিন ৮৭ ডিগ্রি ৩০ মিনিট দ্রাঘিমাংশে ও ৩৬ ডিগ্রি ১৫ মিনিট অক্ষাংশে অবস্থিত। এটি বড় শহর, বাড়িগুলো নিচু ও জরাজীর্ণ; বাদশাহের বাগানের পার্শ্ববর্তী সাট আটটি ছাড়া। এই শহরের কোন প্রাচীর নেই। প্রকৃতপক্ষে শহরের অধিকাংশ অংশেই রয়েছে বাগান। এখানে নগরচত্বর ঘেরা তিনটি সরাইখানা রয়েছে। এদের একটি অনেক বড় এবং সুবিধাজনক। এটি সম্পূর্ণরূপেই মুসলমানদের বাসস্থান, যদি খ্রিস্টান থেকেও থাকে, খুব কম।

    কাসবিনের মাটিতে পেস্তা উৎপন্ন হয়। যে গাছে পেস্তা ধরে, তা দশ বারো বছরের আখরোট গাছের চেয়ে বড় নয়। পারস্যের বাইরে যে বিপুল পরিমাণ পেস্তা রপ্তানি হয় তা আসে মালাভার্ত থেকে। এটি ইস্পাহানের পূর্বদিকে বার লীগ দূরের ছোট শহর। এগুলো বিশ্বের সেরা পেস্তা। এই দেশে এত বেশি পেস্তা উৎপন্ন হয় যে তা সমগ্র পারস্য ও ভারতবর্ষে সরবরাহ করা হয়।

    কাসবিন ছেড়ে একটি ছোট গ্রাম, মাত্র ছয় লীগ; ভূমি উর্বর ও জল সুপেয়; এখানে একটি সরাইখানা আছে।

    পরদিন একটি ভাল এলাকা ভ্রমণ করে নয় দশ ঘণ্টায় ডেঙ্গেতে চলে আসবেন। এটি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি বড় গ্রাম। এর মধ্য দিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন নদী বয়ে গেছে। এটি উপচে পড়ে চমৎকার, সাদা ও লাল মদে। পর্যটকেরা তাদের বোতলগুলো এখানে পুনরায় ভর্তি করার প্রয়াস পায়। কিন্তু তারা এখানে কখনো রাত্রিযাপন করে না, আরও এক লীগ দূরে ভাল সরাইখানার আকাঙ্ক্ষায় অভিলাসী হয় যা একটি সুদর্শন স্থানে অবস্থিত।

    ডেঙ্গে শহরেই তাউরিস থেকে ইস্পাহানের দুটি রাস্তা মিলিত হয়েছে। প্রথমটি হলো, আর্দেইল থেকে কাসবান। আমি ইতিমধ্যেই এর বর্ণনা করেছি। মেশেহেদ ও কান্দাহার হয়ে ভারতবর্ষে যাওয়া কাফেলাগুলি এখানে আসে এবং তারা ইস্পাহান সড়ক ছেড়ে বাম দিকেক পথ ধরে, যা তাদের পূর্বদিকে নিয়ে যায়।

    • [1] প্রাচ্য সমতল বৃক্ষ, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ থেকে উত্তর ইরানে জন্মানো স্থানীয় বৃক্ষবিশেষ।
    • [2] যেখানে চার্চ বা গির্জার পাদ্রি ও গায়কেরা সারিবদ্ধভাবে বসে।
    তাহের আলমাহদী
    তাহের আলমাহদী
    জন্ম কুমিল্লায়। পড়াশোনা করেছেন লাকসাম নওয়াব ফয়েজুন্নেসা সরকারি কলেজ ও নোয়াখালী সরকারি কলেজে। রিযিকের সন্ধানে দেড় যুগের বেশি সময় আছেন সাউদী আরবে। সাহিত্যের চর্চা ছাত্রজীবন থেকে হলেও কোন লেখাই প্রকাশিত হয়নি। সাহিত্যের প্রতি অনুরাগের বশেই গড়ে তুলেছে সাহিত্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এডুলিচার। এছাড়া বিনামূল্য গ্রন্থ সরবরাহের জন্য আছে এডুলিচার অনলাইন লাইব্রেরি এবং সম্পাদনা করছেন অনলাইন সাহিত্য পত্র ‘জেগে আছি’।

    LEAVE A REPLY