সপ্তাহের সেরা

    আখ্যাত রচনা

    স্কন্দপুরাণ – সার্ধ সহস্রাব্দের বিবর্তন : তৃতীয় পর্ব

    স্কন্দপুরাণের প্রাচীনতম তালপাতার পুথি বর্তমানে নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অভিলেখালয়ে সংরক্ষিত আছে। ৮১১ (বা ৮১০) সাধারণ অব্দে লিপিবদ্ধ এই পুথিতে অযোধ্যা মাহাত্ম্য বা রাম জন্মভূমির কোনও উল্লেখ মাত্র নেই।

    স্কন্দপুরাণের ছয় সংহিতা

    স্কন্দপুরাণের মুদ্রিত সংস্করণে যে ৭ খণ্ডের রূপের আমরা দেখা পেয়েছি, তার থেকে সম্পূর্ণ পৃথক আর একটি ৬টি সংহিতা সমন্বিত রূপের অস্তিত্ব সম্পর্কেও আমরা দীর্ঘদিন ধরে অবহিত। স্কন্দপুরাণের এই ৬টি সংহিতা বিশিষ্ট রূপের একত্রে কোনও পাণ্ডুলিপির অস্তিত্ব আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাণ্ডুলিপি বা মুদ্রিত সংস্করণ রূপে বিদ্যমান বেশ কয়েকটি সংস্কৃত গ্রন্থে দেখা যায়, ঐ গ্রন্থগুলিকে স্কন্দপুরাণের ৬টি সংহিতার মধ্যে কোনও না কোনও সংহিতার অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গ্রন্থগুলি থেকেই স্কন্দপুরাণের ৬টি সংহিতার স্বরূপ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে পারা গিয়েছে।

    হালাস্য মাহাত্ম্য (বা হালাস্যক্ষেত্র মাহাত্ম্য) অন্ত-মধ্যযুগের দক্ষিণ ভারতে রচিত তামিল নাড়ুর মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী মন্দির ও অন্যান্য তীর্থ নিয়ে একটি সংস্কৃত গ্রন্থ। ১৮৬৬ সালে মাদ্রাজ থেকে প্রথম মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার পর একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। মুদ্রিত সংস্করণগুলি ৭১ অধ্যায় বিশিষ্ট। এই গ্রন্থের প্রত্যেক অধ্যায়ের শেষে পুষ্পিকায় গ্রন্থটিকে স্কন্দপুরাণের অন্তর্গত অগস্ত্য সংহিতার অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে (১.৬২-৬৫) বলা হয়েছে, স্কন্দপুরাণ ৬টি সংহিতা সমন্বিত – প্রথম সনৎকুমার সংহিতা, দ্বিতীয় সূত সংহিতা, তৃতীয় শাঙ্করী সংহিতা, চতুর্থ বৈষ্ণবী সংহিতা, পঞ্চম ব্রাহ্মী সংহিতা ও ষষ্ঠ সৌর সংহিতা এবং এই ৬টি সংহিতা মিলিয়ে স্কন্দপুরাণে মোট ৫০টি খণ্ড রয়েছে। এই গ্রন্থে অগস্ত্য সংহিতাকেই তৃতীয় শাঙ্করী সংহিতা বলে উল্লিখিত হয়েছে।[১]

    শিবরহস্যখণ্ড অন্ত-মধ্যযুগের দক্ষিণ ভারতে রচিত আরেকটি সংস্কৃত গ্রন্থ। ১৮৫৯ সালে মাদ্রাজ থেকে এই গ্রন্থের মতুকুমল্লি কনকাদ্রি শাস্ত্রী সম্পাদিত প্রথম মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়। শিবরহস্যখণ্ড গ্রন্থের শেষে পুষ্পিকায় গ্রন্থটিকে স্কন্দপুরাণের অন্তর্গত শঙ্কর (শাঙ্করী) সংহিতার অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গ্রন্থটি ৭টি কাণ্ডে বিভক্ত; সম্ভবকাণ্ডে ৫০ অধ্যায়, আসুরকাণ্ডে ১৫টি অধ্যায়, বীরমাহেন্দ্রকাণ্ডে ৭টি অধ্যায়, যুদ্ধকাণ্ডে ৩৫টি অধ্যায়, দেবকাণ্ডে ৭টি অধ্যায়, দক্ষকাণ্ডে ৪০টি অধ্যায় ও উপদেশকাণ্ডে ৮৫টি অধ্যায় আছে। সম্ভবকাণ্ডের দ্বিতীয় অধ্যায়ে (২.৫৪-৬০) উল্লেখ করা হয়েছে, স্কন্দপুরাণের অন্তর্গত ৬টি সংহিতা আছে – প্রথম সনৎকুমার সংহিতা, দ্বিতীয় সূত সংহিতা, তৃতীয় ব্রাহ্মী সংহিতা, চতুর্থ বৈষ্ণবী সংহিতা, পঞ্চম শাঙ্করী সংহিতা এবং ষষ্ঠ সৌরী সংহিতা।সমগ্র স্কন্দপুরাণ এক লক্ষ গ্রন্থ (বা শ্লোক) ৫০টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত; সনৎকুমার সংহিতায় ৫৫,০০০ শ্লোক, সূত সংহিতায় ৬,০০০ শ্লোক, ব্রাহ্মী সংহিতায় ৩,০০০ শ্লোক, বৈষ্ণবী সংহিতায় ৫,০০০ শ্লোক, শাঙ্করী সংহিতায় ৩০,০০০ শ্লোক এবং সৌরী সংহিতায় ১,০০০ শ্লোক সমাবিষ্ট।[২]

    সূতসংহিতা গ্রন্থটি সম্ভবত আদি-মধ্যযুগের শেষ দিকে রচিত। ১৮৯৩ সালে স্কন্দপুরাণের সূতসংহিতার প্রথম মুদ্রিত সংস্করণ পুণার আনন্দ আশ্রম প্রেস থেকে তিনটি ভাগে প্রকাশিত হয়, ১৯২৪ সালে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। সূতসংহিতার আনন্দ আশ্রম সংস্করণে এই গ্রন্থের চতুর্দশ শতক সাধারণ অব্দে মাধবমন্ত্রী রচিত তাত্পর্যদীপিকা নামের ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থও সন্নিবিষ্ট করা হয়েছে। পরবর্তী কালে এই গ্রন্থের আরও মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। শৈব ধর্মীয় সাহিত্যের ধারায় রচিত এই গ্রন্থটি ৪টি খণ্ডে বিভক্ত – শিবমাহাত্ম্য খণ্ড, জ্ঞানযোগ খণ্ড, মুক্তি খণ্ড ও যজ্ঞবৈভব খণ্ড; চতুর্থ যজ্ঞবৈভব খণ্ডটি অধোভাগ বা পূর্বভাগ ও উপরিভাগ নামের দু’টি অংশে বিভক্ত। এই গ্রন্থের মুদ্রিত সংস্করণগুলিতে প্রথম তিনটি খণ্ড ও চতুর্থ খণ্ডের পূর্বভাগ মিলিয়ে মোট ৮৯টি অধ্যায় এবং চতুর্থ খণ্ডের উপরিভাগের দুটি পরিশিষ্ট ব্রহ্মগীতা ও সূতগীতায় যথাক্রমে ১২টি ও ৮টি অধ্যায় রয়েছে। শিবমাহাত্ম্য খণ্ডের প্রথম অধ্যায়ে (১.১৯-২১) বলা হয়েছে, স্কন্দপুরাণ ৬টি সংহিতা তথা ৫০টি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম সনৎকুমার সংহিতা, দ্বিতীয় সূত সংহিতা, তৃতীয় শাঙ্করী সংহিতা, চতুর্থ বৈষ্ণবী সংহিতা, পঞ্চম ব্রাহ্মী সংহিতা ও ষষ্ঠ সৌর সংহিতা। সূতসংহিতা গ্রন্থেও (১.২২-২৪) বলা হয়েছে, সনৎকুমার সংহিতায় ৫৫,০০০ গ্রন্থ (বা শ্লোক), সূত সংহিতায় ৬,০০০ গ্রন্থ, শাঙ্করী সংহিতায় ৩০,০০০ গ্রন্থ, বৈষ্ণবী সংহিতায় ৫,০০০ গ্রন্থ, ব্রাহ্মী সংহিতায় ৩,০০০ গ্রন্থ এবং সৌর সংহিতায় ১,০০০ গ্রন্থ সমাবিষ্ট।[৩]

    সনৎকুমার সংহিতার অন্তর্গত কালিকা খণ্ডের ১৭৯৬ সাধারণ অব্দে লিপিবদ্ধ ১০০টি অধ্যায় বিশিষ্ট তুলোট কাগজে লেখা একটি পাণ্ডুলিপি কলকাতার সংস্কৃত কলেজের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। এর প্রথম অধ্যায়ে স্কন্দপুরাণের সম্পর্কে বিস্তৃত বিবরণ রয়েছে। এই বিবরণ অনুযায়ী স্কন্দপুরাণ ৬টি সংহিতা ও ৫০টি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম সনৎকুমার সংহিতা ২৫টি খণ্ড, ১০,০০০ অধ্যায় ও ৫০,০০০ শ্লোক বিশিষ্ট; দ্বিতীয় সূত সংহিতার ৪ খণ্ড ও ৭৬টি অধ্যায়; তৃতীয় শঙ্কর সংহিতার ২১টি খণ্ড ও ২০০০টি অধ্যায়; চতুর্থ বৈষ্ণবী সংহিতা ৩০০টি অধ্যায়ে বিভক্ত; পঞ্চম ব্রাহ্মী সংহিতায় ৩০০০ শ্লোক ও ষষ্ঠ সৌর সংহিতায় ৬০,০০০টি শ্লোক আছে। এই গ্রন্থে (১.১৩-৩০) সনৎকুমার সংহিতার ২৫টি খণ্ডের নামেরও উল্লেখ আছে। এই ২৫টি খণ্ডের নাম – ক্ষেত্র খণ্ড, তীর্থ খণ্ড, কাশী খণ্ড, সহ্যাদ্রি খণ্ড, হিমাচল খণ্ড, মলয়াচল খণ্ড, বিন্ধ্যাদ্রি খণ্ড, মোক্ষ খণ্ড, প্রভাস খণ্ড, পুস্কর খণ্ড, নাগর খণ্ড, নর্মদা খণ্ড, শ্রীশৈল খণ্ড, অবন্তী খণ্ড, গৌরী খণ্ড, কুরুক্ষেত্র খণ্ড, কেদার খণ্ড, হরিদ্বার খণ্ড, সেতুমাহাত্ম্য খণ্ড, কালিকা খণ্ড, ব্রতোপাখ্যান খণ্ড, নদী খণ্ড, ধর্ম খণ্ড, দেশ খণ্ড এবং বর্ষ খণ্ড।[৪] লক্ষণীয়, বর্তমান ৭ খণ্ডাত্মক মুদ্রিত সংস্করণের বেশ কিছু অংশ যেমন, কেদার খণ্ড, কাশী খণ্ড, অবন্তী খণ্ড, নাগর খণ্ড, নর্মদা খণ্ড বা সেতুমাহাত্ম্য খণ্ড এখানে সনৎকুমার সংহিতার অন্তর্গত বলে উল্লিখিত।

    কালিকা খণ্ডে উল্লিখিত সনৎকুমার সংহিতার অন্তর্গত সহ্যাদ্রি খণ্ড সহ্যাদ্রি অর্থাৎ পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের তীর্থক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে বিবরণমূলক গ্রন্থ। ১৮৭৭ সালে বম্বই থেকে সহ্যাদ্রি খণ্ডের প্রথম মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এই মুদ্রিত সংস্করণে গ্রন্থটি দুটি অংশে বিভক্ত – আদিরহস্য বা পূর্বার্ধ এবং উত্তররহস্য বা উত্তরার্ধ; প্রথম অংশে ৬৭টি অধ্যায় ও দ্বিতীয় অংশে ২১টি অধ্যায় রয়েছে। সহ্যাদ্রি খণ্ডের উত্তরার্ধের সঙ্গে আরও কয়েকটি ছোট বড় গ্রন্থকে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখনীয় ৪০ অধ্যায় বিশিষ্ট রেণুকা মাহাত্ম্য। এছাড়া আছে ৮ অধ্যায়ের চন্দ্রচূড় মাহাত্ম্য, ২ অধ্যায় বিশিষ্ট নাগাব্হয় মাহাত্ম্য, ২ অধ্যায়ের বরুণাপুর মাহাত্ম্য, ৪ অধ্যায় বিশিষ্ট কামাক্ষী মাহাত্ম্য ও ১২ অধ্যায়ের মাঙ্গীশ মাহাত্ম্য।[৫] তবে মুদ্রিত সংস্করণের অন্তর্ভুক্ত মাহাত্ম্য গ্রন্থগুলি ছাড়াও আরও কয়েকটি সহ্যাদ্রি খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লিখিত মাহাত্ম্য গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম, ১০ অধ্যায়ে সম্পূর্ণ রামক্ষেত্র মাহাত্ম্য গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়টি মুদ্রিত সংস্করণের উত্তররহস্যের ২০তম অধ্যায় হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। বানবাসীক্ষেত্র মাহাত্ম্য নামের আর একটি গ্রন্থের পুষ্পিকায় গ্রন্থটিকে সহ্যাদ্রি খণ্ডের ২২তম থেকে ২৬তম অধ্যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু মুদ্রিত সংস্করণে এই গ্রন্থের কোনও চিহ্ন দেখা যায় না।

    সনৎকুমার সংহিতার অন্তর্গত হিমবৎ খণ্ডের ১৭৯৬ সালে দেবনাগরী লিপিতে লেখা একটি পাণ্ডুলিপি বর্তমানে ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। এই পাণ্ডুলিপিতে ১৮৫টি অধ্যায় রয়েছে। পাণ্ডুলিপির শেষের কিছু অধ্যায় নেপাল মাহাত্ম্য বলে উল্লিখিত এবং মুদ্রিত গ্রন্থের সঙ্গে অভিন্ন।[৬] আনুমানিক ত্রয়োদশ শতক সাধারণ অব্দে রচিত নেপাল মাহাত্ম্য গ্রন্থটির মুরলীধর ঝাঁ সম্পাদিত প্রথম মুদ্রিত সংস্করণ বারাণসী থেকে ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থটি নেপালি, হিন্দি ও জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়েছে। মুদ্রিত সংস্করণগুলি ৩০ অধ্যায় বিশিষ্ট এবং এই গ্রন্থটি হিমবৎ খণ্ডের অংশ বলে প্রত্যেক অধ্যায়ের শেষে পুষ্পিকায় উল্লিখিত।[৭] ১৫ অধ্যায় বিশিষ্ট তুলসী মাহাত্ম্য ও ৫৬ অধ্যায় বিশিষ্ট ত্রিশিরগিরি মাহাত্ম্য বা ত্রিশিরশৈল মাহাত্ম্য গ্রন্থদ্বয়ের পাণ্ডুলিপির পুষ্পিকায় স্কন্দপুরাণের সনৎকুমার সংহিতার অন্তর্গত বলে উল্লিখিত।

    তল্পগিরি মাহাত্ম্য নামের একটি গ্রন্থের পুষ্পিকায় গ্রন্থটিকে স্কন্দপুরাণের বৈষ্ণব সংহিতার অন্তর্গত ক্ষেত্র খণ্ডের ৭৯তম অধ্যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[৮] প্রণবকল্প নামের ৫ অধ্যায় বিশিষ্ট আরেকটি গ্রন্থের কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপির পুষ্পিকায় ঐ গ্রন্থটিকে স্কন্দপুরাণের বৈষ্ণব সংহিতার অন্তর্গত মন্ত্রপ্রস্তাবের অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গঙ্গাধরেন্দ্র সরস্বতী প্রণবকল্পের প্রণবকল্পপ্রকাশ নামে একটি ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থ রচনা করেন।[৯] ১৯০২ সালে কুম্ভকোনম থেকে প্রণবকল্প গ্রন্থের প্রথম মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ১৯৩৩ সালে বারাণসী থেকে গঙ্গাধরেন্দ্র সরস্বতী রচিত প্রণবকল্পপ্রকাশ সমেত গ্রন্থটির আরেকটি মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

    ২০০০ সালে তিরুপতির রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত বিদ্যাপীঠ থেকে স্কন্দপুরাণের সৌর সংহিতার একটি সমীক্ষাত্মক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। ১৬টি অধ্যায় বিশিষ্ট সৌর সংহিতার প্রথম মুদ্রিত সংস্করণের জন্য বিভিন্ন গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ২১টি পাণ্ডুলিপি ব্যবহৃত হয়েছে। সৌর সংহিতার শুরুতে বলা হয়েছে (১.২৭-৩০) স্কন্দপুরাণ এক লক্ষ গ্রন্থে (শ্লোকে) বিনির্মিত ও ৫০টি খণ্ড বিশিষ্ট এবং এই গ্রন্থটি ৬টি সংহিতায় বিভক্ত স্কন্দপুরাণের অন্তিম সংহিতা, এক সহস্র গ্রন্থ (শ্লোক) সমন্বিত সৌর সংহিতা।[১০]

    এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য থেকে স্কন্দপুরাণের ৬টি সংহিতা বিশিষ্ট রূপের সম্পূর্ণ পরিচিতি পাওয়া সম্ভব হয়নি। ৬টি সংহিতার মধ্যে দু’টি সংহিতা – সূত সংহিতা ও সৌর সংহিতা এখনও পর্যন্ত কেবল সম্পূর্ণ মুদ্রিত হয়েছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে, এই ৬টি সংহিতা বিশিষ্ট রূপের অংশ বলে উল্লিখিত গ্রন্থগুলির অধিকাংশই দাক্ষিণাত্য বা দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্রের মাহাত্ম্য নিয়ে রচিত।

    [ক্রমশঃ]

    তথ্যসূত্র:

    1. Heinrich von Stietencron, Angelika Malinar, K.-P. Gietz, A. Kollmann, P. Schreiner and M. Brockington edited, ‘Epic and Purāṇic Bibliography (up to 1985) annotated and with indexes, Part II S-Z, Indexes’; Wiesbaden: Otto Harrassowitz, 1992, pp. 1160-1170.
    2. Ludo Rocher, ‘The Purāṇas’; Wiesbaden: Otto Harrassowitz, 1986, pp. 228-237.
    3. R.C. Hazra, ‘Studies in the Purāṇic Records on Hindu Rites and Customs’; Dacca: The University of Dacca, 1940, pp. 157-166.

    পাদটীকা

    1. S.V. Radhakrishna Sastri compiled, ‘Sri Minakshi Stuti Manjari and Sri Halasya Mahatmyam’; Bangalore: Sri Mahaperiyaval Trust, 2005, p. 108.
    2. Julius Eggeling edited, ‘Catalogue of the Sanskrit Manuscripts in the Library of the India Office, Part VI, Saṃskṛit Literature: B. Poetical Literature, I Epic Literature, II Pauranik Literature’; London: The Secretary of State for India in Council, 1899, pp. 1362-1365.
    3. বাসুদেবশাস্ত্রী পণশীকর সম্পাদিত, ‘শ্রীমৎ স্কন্দপুরাণান্তর্গতা সূতসংহিতা, শ্রী মাধবাচার্য প্রণীত তাত্পর্যদীপিকা ব্যাখ্যাসমেতা (তত্র আদ্যং খণ্ডত্রিতয়ম)’; পুণ্যাখ্যপত্তন: আনন্দাশ্রম মুদ্রণালয়, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯২৪, পৃ. ৯।
    4. Hrīshikeśa Śastrī and Śiva Chandra Gui, ‘Descriptive Catalogue of Sanskrit Manuscripts in the Library of the Calcutta Sanskrit College, Vol. IV Purāna Manuscripts’; Calcutta: J.N. Banerjee & Son, Banerjee Press, 1902, pp. 171-173.
    5. J. Gerson Da Cunha edited, ‘The Sahyādri-Khaṇḍa of the Skanda Purāṇa: A Mythological, Historical and Geographical Account of Western India’; Bombay: Thacker and Vining, 1877.
    6. Julius Eggeling edited, ‘Catalogue of the Sanskrit Manuscripts in the Library of the India Office, Part VI, Saṃskṛit Literature: B. Poetical Literature, I Epic Literature, II Pauranik Literature’, pp. 1383-1385.
    7. Kamal P. Malla, “The Nepāla Mahātmya: A IX-Century Text or a Pious Fraud?” in ‘Contributions to Nepalese Studies, Vol. 19, No. 1 (January 1992)’; Kirtipur: Centre for Nepal and Asian Studies, 1992, pp. 145-157.
    8. Julius Eggeling edited, ‘Catalogue of the Sanskrit Manuscripts in the Library of the India Office, Part VI’, pp. 1343-1344.
    9. Haraprasāda Shāstrī, ‘A Descriptive Catalogue of Sanskrit Manuscripts in the Government Collection under the Care of the Asiatic Society of Bengal, Vol. V Purana Manuscripts’; Calcutta: The Asiatic Society of Bengal, 1928, pp. 540-541.
    10. U. Shankara Bhatta critically edited, ‘Saurasaṁhitā of Śrī Skānda Purāṇa’; Tirupati: Rashtriya Sanskrit Vidyapeetha, 2000, pp. vi-vii.
    জয়ন্ত ভট্টাচার্য
    জয়ন্ত ভট্টাচার্য
    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিবিদ্যার স্নাতক এবং তিন দশক যাবৎ বিমান প্রযুক্তিবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত। ইতিহাসের আগ্রহী পাঠক। সম্প্রতি ইতিহাস বিষয়ে লেখালেখি শুরু করেছেন।